✍︎ ভোলা প্রতিনিধি ✍︎
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে না দেওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী দ্বারা হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষকসহ ৫ থেকে ৭ জন আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১টার পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষায় অসাধুপায় অবলম্বনের সুযোগ না দেওয়ায় একদল পরীক্ষার্থী এ হামলা চালায়।
তবে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্ন কঠিন হওয়া এবং কক্ষ পরিদর্শকদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার প্রতিবাদেই তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চরফ্যাশন মহিলা মহাবিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বাচ্চু সাংবাদিকদের জানান, আইসিটি পরীক্ষায় ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্রায় ২০০ পরীক্ষার্থী প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে এবং কলেজ প্রাঙ্গণে ডিম নিক্ষেপ করে।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে তারা উত্তর-পশ্চিম পাশের দুটি গেট ভেঙে কলেজে প্রবেশ করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের পেছন দিক থেকে অফিসের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা–মতিন মহিলা কলেজের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। আগে দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা পরস্পরের কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা দিত। এবার চরফ্যাশন সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীরা ফাতেমা–মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। আর ফাতেমা–মতিনের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে জনতাবাজার ডিগ্রি কলেজে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফাতেমা–মতিন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা পরীক্ষার শুরু থেকেই পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করছেন। পরীক্ষার সময় কোনো শিক্ষার্থী সময় জানতে চাইলেও খাতা নিয়ে কিছু সময় বসিয়ে রাখা হচ্ছে। এসব ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আজ পরীক্ষা শেষে ক্ষুব্ধ কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজের জানালার গ্রিল ও কাচের জানালায় ইট ছুড়ে ভাঙচুর করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সহযোগিতায় পরীক্ষার উত্তরপত্র নিরাপদে পোস্ট অফিসে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইসিটি বিষয়ের প্রশ্ন অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর জন্য কঠিন হওয়ায় এবং পরীক্ষার হলে কক্ষ পরিদর্শকদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় পরীক্ষা শেষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজের দুটি গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভবনের জানালা ও কপাট ভাঙচুর করে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ আল ভূইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, ‘প্রশ্ন কঠিন হয়েছে এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগে পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
