ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আন্দোলনের সমাপ্তি সিজেপির

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও অন্যান্য দাবি পূরণ হওয়ায় ৩৬ দিনের আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সরকার যদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে, তাহলে আলোচনার কোনো অর্থ হয় না।

আশুতোষ আরও বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আপস চলবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নেতিবাচক জবাব এলে আলোচনার আর কোনো অর্থ থাকে না।

এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং শুক্রবার বিকেলে কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সিজেপি জানিয়েছে, তারা এখনও তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটি তিনটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় কেন্দ্র বিক্ষোভকারীদের দুটি প্রধান দাবিতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এগুলো হলো, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা ৩৬ দিন ধরে রাজপথে চলা এই আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। আজ শনিবার ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানিতে বেকার ও প্রতিবাদী যুবসমাজকে ‘আরশোলা’ ও ‘সমাজের পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ও ব্যঙ্গাত্মক বার্তা ছড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত তরুণদের প্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও একের পর এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে নেটদুনিয়া ছেড়ে সরাসরি রাজপথে নেমে আসেন এই ‘জেন-জি’ ও তরুণ আন্দোলনকারীরা।

চলমান এই আন্দোলনে সিজেপির ওপর দফায় দফায় দমন-পীড়ন চালায় পুলিশ। জুনের শেষ দিকে দিল্লিতে যন্তর মন্তরে টানা অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করা হয়। এতে যুক্ত হন বিখ্যাত শিক্ষাকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি একটানা ২৬ দিন অনশনে ছিলেন। চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেননি। এমনকি আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসীদের বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করলেও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

অবশেষে নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসের পর ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে প্রথম বড় জয় নিশ্চিত করে আন্দোলনকারীরা। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বললেন, ‘আমাদের আরশোলা বলে কটাক্ষ করার জন্যই আজ এই তরুণসমাজ জাগ্রত হয়েছে। যদি অন্যায় দেখে আমরা ভয় না পাই, তবে যে-কারও পদত্যাগ আদায় করা সম্ভব।’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কেন্দ্র করে প্রথম দাবি পূরণ হলেও মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের জন্য ক্ষমা চাওয়ার মতো অন্য দাবিগুলোর বিষয়েও সরকারের নজর দাবি করেছে সংগঠনটি। মাত্র ৭১ দিনের ব্যবধানে নিছক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক রূপান্তর ভারতের যুব আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *