সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথি

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি গোপনীয় নথি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। 

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া ওই নথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন।

জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনকে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। এর পরেরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটি আক্তারকে আটক করা হয়।

চিঠি অনুযায়ী, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানি’র পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তবে ওই বন্দি তালিকায় তাদের কারো মৃত্যুদণ্ডের সাজার কথা উল্লেখ ছিল না। 

নথিতে বলা হয়, বন্দি তালিকায় ৯৭ জন বন্দির অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকলেও, এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলামে কোনো তথ্য দেওয়া ছিল না। 

সৌদি আরবে সাইবার আইন এবং ব্যভিচারের অপরাধে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ এবং ব্যভিচারের অভিযোগে এর আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির কনস্যুলেটের জানা নেই। এ কারণে দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ও সাজার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ (কূটনৈতিক পত্র) পাঠিয়ে রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তবে বিচার চলাকালে আসামিদের পক্ষে কোনো দোভাষী বা আইনি প্রতিনিধি ছিলেন কি না, সে বিষয়ে চিঠিতে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। চিঠি অনুযায়ী, দুই বন্দীর পরিবারের পক্ষ থেকেও আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে কোনো আবেদন বা যোগাযোগ করা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের অপরাধ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে শুনানির সময় ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনুবাদ সহায়তা নেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় বিচারিক কার্যক্রমে আসামির পক্ষে অনুবাদক হিসেবে বাংলাদেশ মিশনের সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না।

কনস্যুলেটের আওতাধীন সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক মামলায় বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন বলে চিঠিতে জানানো হয়। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে মক্কায় সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা আরও তিনটি পৃথক মামলায় আসামিদের সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তারের মামলার রায়, তাদের বিরুদ্ধে থাকা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের অনুলিপি ও মামলার নথি পাওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত ও স্পষ্ট তথ্য জানা সম্ভব হবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *