✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে নির্মাণত্রুটির প্রমাণ পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু নির্মাণগত ত্রুটি পাওয়া গেছে। সেগুলো নবজাতকদের চিকিৎসা পরিবেশে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলেছিল কিনা, তা তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা, বায়ু চলাচল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্ত কমিটি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছে।
গত কয়েক দিনে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথকভাবে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। পরিবারগুলোর পক্ষ থেকেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়।
ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে দায়–দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও থাকবে।
তিনি বলেন, তদন্তে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত ত্রুটিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে। ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় করা সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামীকাল (শনিবার) জমা দেওয়া হবে।
এর আগে, বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকদের বয়স এক থেকে তিন দিন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, জন্মের পর তারা সবাই সুস্থ ছিল। পরে পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে অবস্থার অবনতি হলে নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) নেওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে সিজারের পর মা ও নবজাতকদের রাখা হয়। বাচ্চারা সুস্থ ছিল। রাতে কোনো এক বাচ্চার মা এসি বন্ধ রাখতে বলেছিল। অনেক সময় গরম বা ঠান্ডা লাগার কারণে চাহিদামতো এসি বন্ধ বা চালু রাখা হয়।
ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে দুটি বাচ্চা হঠাৎ একটু অসুস্থ হওয়ায় তাদেরকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা ভালো দেখে পরে আবার ওয়ার্ডে ফেরত পাঠিয়ে দেন।
তিনি বলেন, পরে ভোর ৬টার দিকে দায়িত্বরত নার্স দেখেন যে ওয়ার্ডের বাচ্চাদেরকে অসুস্থ মনে হচ্ছে। এ সময় বাচ্চাদের মায়েরা একই কথা বলেন। পরে দ্রুত তাদেরকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা দুটি নবজাতককে ব্রট ডেড (আগেই মৃত) অবস্থায় পায়। বাকি চার নবজাতকও ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল। তাদেরকে দ্রুত ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়। কিন্তু তাদেরকে আর বাঁচানো যায়নি।
এর আগে, এই ঘটনায় ঢাকার রমনা থানায় মামলা হয়। মামলায় অবহেলাজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। নিহত এক নবজাতকের স্বজন বুধবার (২৭ মে) রাতে বাদী হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
