ধর্ষণের মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেফতার

✍︎ ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ✍︎

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (৩৩) ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার মহিষারন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪ সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

মামলার অভিযোগ ও র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীকে (১৫) কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় করে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন রিপন মিয়া। গত ১ আগস্ট শনিবার রাতে ওই কিশোরীকে জরুরি কথা আছে বলে মগড়া নদীর পাড়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ৫ আগস্ট কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ঘটনার পরপরই রিপন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান।

র‍্যাব-১৪ সদর কোম্পানির কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই র‍্যাব অভিযুক্তকে গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত ও নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহিষারন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন বিভিন্ন সময় ভিডিও তৈরির অজুহাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি গত ৩০ জুলাই রাত আটটার দিকে ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়তে তাঁকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

সালিসের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন রিপন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো…! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’

এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, গ্রেফতারকৃত রিপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রিপন মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার একটি গ্রামে। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রি। ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ এসব সংলাপের ভিডিও দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে ‘রিপন মিয়া’ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন। পেজটিতে বর্তমানে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৯ লাখ।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *