পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট উপাচার্য

✍︎ চুয়েট প্রতিনিধি ✍︎

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।

চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়তে উপাচার্যকে একটি শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা দেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’

এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি। তাদের দাবি-দাওয়া শুনেছি। আমরা তাদের আশ্বস্ত করে বলেছি যে- তাদের দাবিগুলো সরকারকে জানাব। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। পুলিশি পাহারায় উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ভেতরে থাকা সবাইকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়া হয়। 

কোথায় নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত আমরা তাকে আগে হাসপাতালে নিয়ে যাবো। 

বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও এসপি মাসুদ আলম। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। ডিসি জাহিদুল ও এসপি মাসুদ আলম শিক্ষার্থীদের জানান, আমরা আপনাদের দাবিগুলো সরকারকে জানাব। উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অসুস্থবোধ করছেন। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাবো। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য কার্যালয়ের তালা খুলে দেন। পুলিশি পাহারায় উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ভেতরে থাকা সবাই ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যান।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সোমবার দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ায় তিনি নিজ কার্যালয়ে আটকে পড়েন। তালা দেওয়ার পাশাপাশি উপাচার্য ভবনের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করেন শিক্ষার্থীরা। 

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কর্মবিরতি’ পালন করে আসছেন। গতকাল সোমবার ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে উপাচার্য ভবনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে যান তিনি।

নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবরে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা তার দপ্তরের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যকে কার্যালয় ত্যাগ করতে সময়সীমা বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর দুপুর ১২টার দিকে তারা উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেন। ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ১০-১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদও ছিলেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *