ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ: শ্রীলঙ্কায় নিহত ১২৩ জন

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■

শ্রীলঙ্কা উপকূল ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র তাণ্ডবে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৩০ জন।

বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীলঙ্কার পত্রিকা নিউজফার্স্ট জানিয়েছে—দেশটির বাদুল্লা, ক্যান্ডি, কেগালে, কুরুনেগালা, মতালে, মনারাগালা ও নুয়ারা এলিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা তীব্র হয়ে ওঠায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। অন্তত ২০টি জেলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাদুল্লা, ক্যান্ডি, নুয়ারা এলিয়া, চিলাও, পুত্তালাম ও আম্পারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে জাফনা রুট ছাড়া রাতের সব মেল ট্রেন বাতিল করেছে। বিদ্যুৎবিভ্রাটেও দেশজুড়ে দুর্ভোগ চলছে। সিলন ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের তথ্যমতে, ৪৫ হাজার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও প্রায় ২৮ হাজার সংযোগ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।

শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ২৮ নভেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী সব প্রি-স্কুল ও শিশু শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রান্না করা খাবার, শুকনো খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করছে বিভিন্ন সংস্থা। জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ১১৭ নম্বরে কল করতে এবং সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব দেখা দিয়েছে বাংলাদেশেও। দেশের চারটি প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮৮০ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে কঠোরভাবে বলা হয়েছে। এছাড়া সব নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *