শাহে আলমের মামলায় গ্রেফতার পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মানহানি মামলায় ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানূর ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের বোর্ড বাজারের একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করেছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, বগুড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে একটি পত্রিকার সম্পাদকসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলার ২ নম্বর আসামি দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত সোমবার (১৫ জুন) বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে মামলার আবেদন করেন।

আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান শুনানি শেষে আবেদনটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট (সদর) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, মামলায় দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। 

দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’র স্টাফ রিপোর্টার শফিক শাহীনও পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের গ্রেফতারের তথ্য জানান।

আদালত সূত্র জানায়, গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার ও বগুড়া প্রতিনিধি শামসসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও মামলার বাদী তানভীর আলমের নামে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওই সংবাদ শেয়ার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।

পরবর্তীতে বগুড়া সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) রহমাতুল্লাহ মানিককে।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *