✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
সোমবার সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সকাল থেকেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের স্থান ত্যাগের অনুরোধ জানায়। তবে তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে। পরে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করা হয়। এতে মতিঝিল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিপেটায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ফলে অতীতে যেসব অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন।
পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি অংশ ব্যাংকের আশপাশে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, সকাল থেকেই আন্দোলনকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের কার্যালয় রয়েছে। তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হলেও তারা সরে না যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে।
তারা দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকে আবারও অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
ঘটনার পর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ওখানে (মতিঝিলে) যেহেতু তিন চারশ লোক ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করতে আসে, সেখানে অনেকগুলো ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা। সেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছিল, যানজট তৈরি হচ্ছিল। তাদেরকে বুঝিয়ে বারবার সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডয় লিপ্ত হন এবং পুলিশের সঙ্গে ধাকাধাক্কি শুরু করে।
‘তারই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাদের আল্টিমেটাম দেয় সরে যাওয়ার জন্য। তারা না গেলে তখন তাদেরকে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপসহ আইনানুগভাবেই যেটা প্রয়োজন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ সেখানে পুলিশের এসি পেট্রোল মতিঝিলসহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন ডিসি নাসিরুদ্দিন।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস রোববার (২৪ মে) বিকেলে হঠাৎ করে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান। ওইদিন কয়েক ঘণ্টা পরেই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ ও চাপের মুখে পদত্যাগ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হন।
এদিকে চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ায় পর সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির আমানতকারীদের একাংশের আশঙ্কা, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিতর্কিত ব্যক্তিকে শীর্ষ পদে বসানো হলে ব্যাংকটি নতুন করে আস্থার সংকটে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানান গ্রাহকরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া গভর্নর ও চারজন ডেপুটি গভর্নরের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভের মুখে মো. খুরশীদ আলম এবং অপর ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
