✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একেএম শহীদুল করিম।
রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতে একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করছেন। তবে গত ৫ই আগস্ট নতুন দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ফলে এই প্রক্রিয়াটি বিঘ্নিত হয়েছে, যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধ করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
শহীদুল করিম বলেন, আমরা মনে করি যে এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।এই লক্ষ্যে, আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের আমাদের অনুরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শহীদ শরীফ উসমান হাদির অভিযুক্ত খুনিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে। আমরা তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।
মুখপাত্র বলেন, আমরা পুনরায় বলছি যে, আমরা সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আমাদের প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাব।
আগামী মাসে (সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
সম্প্রতি শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে অবশ্য ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক তৎফরতায় প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লি নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে। এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দুই দিনের সফর আয়োজনের জন্য সম্ভাব্য তারিখও এরই মধ্যে বাংলাদেশকে প্রস্তাব করেছে ভারত। এখন ওই তারিখের পরিবর্তে কাছাকাছি সময়ে সফরটির কথা ভাবছে বাংলাদেশ। তবে আগস্টের তৃতীয় আর চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে এ সফরের সূচি নিয়ে দুই দেশ পৃথক তারিখের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরের প্রস্তুতি বিষয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কোনো দেশই গতকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।
