দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকেছে ঢাকা  

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

সৌদি আরবে অনৈতিক কাজের দায়ে ২ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায়।

ডেকে এনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিথি আখতার।

মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাদের গ্রেফতার করেছিল।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ অর্থাৎ বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। 

অপরাধী হলেও ওই দুই ব্যক্তির নিজের দেশকে (বাংলাদেশ) না জানানো এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী নিয়োগ বা কোনো সুযোগ না দেওয়ার সমালোচনা করছেন সাধারণ মানুষ। আবার এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা কী, ঘটনা জানার পর তারা কী করছে- এসব প্রশ্নও উঠেছে।

একই কূটনৈতিকপত্র গত বৃহস্পতিবার জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসাল জেনারেলের দপ্তর থেকে সেখানকার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো হয়েছিল। আজ সকালে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসাল জেনারেলের দপ্তর থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় কর্মকর্তার দপ্তরে আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধও জানানো হয়েছে।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসাল জেনারেলের দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, দু–এক দিনের মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে কনসাল জেনারেলের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী। উক্ত সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো দেশের নাগরিক গ্রেফতার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেট বা মিশনকে অবহিত করতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *