✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
আগামীকাল ১৫ আগস্ট (শনিবার) উপলক্ষে রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে ৯ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ) নিয়াজ মেহেদী পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবেলায় পুরো রাজধানীকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিম্নোক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে-
১। রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হচ্ছে।
২। মহানগরের সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে।
৩। ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা অপারেশনাল কার্যক্রমে মোতায়েন থাকবে।
৪। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
৫। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির আওতায় থাকবে।
৬। সিটিএসবি ও আইএডির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত র্যাব ও সিআইডি টিম মোতায়েন থাকবে।
৭। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলায় পর্যাপ্ত কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত ও মোতায়েন থাকবে।
৮। স্বাভাবিক মোতায়েনের বাইরে অতিরিক্ত অফিসার ও ফোর্স রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, অনুষ্ঠানস্থল, মেট্রোরেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, ট্রেন স্টেশন ও শপিংমলসহ সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৯। ডিএমপির সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে মাঠে থেকে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন।
১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার অভিযোগ, গ্রেফতার ৫২ জন কারাগারে
রাজধানীতে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার ৫২ জনকে কারাগার এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ঈশান ও হাসিব নামের ২ জনকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন।
কামাল হোসেন বলেন, গ্রেফতার ৫৪ জনের মধ্যে ৫২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুজনকে পাঠানো হয়েছে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। গ্রেফতারদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন।
এর আগে আসামিদের কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজুর রহমান।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কাজ এখনো চলছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। আসামিরা জামিন পেলে আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটকে রাখা প্রয়োজন।
এদিন আসামিদের শুনানিতে হাজির করা হয়নি। তাদের পক্ষে আদালতে কোনো জামিনের আবেদনও করা হয়নি।
এর আগে ভাটারা থানার এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাটি করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর একটি বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তারা ওই বাসার দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা ফোন ও তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়। জব্দ করা ব্যানারে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের কথা লেখা ছিল। পুলিশ জানায়, ব্যানারে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছবিও ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। তারা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
