২৬ দিন পর উৎপাদনে ফিরল ইস্টার্ন রিফাইনারি

✍︎ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ✍︎ 

২৬ পর উৎপাদনে ফেরত গেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে রিফাইনারির বিভিন্ন ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়। বেলা ১২টার দিকে পুরোদমে উৎপাদনে যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ না আসায় গত ১২ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৩৯৫ টন ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ পৌঁছায়। এরপর লাইটারিংয়ের মাধ্যমে রিফাইনারিতে যুক্ত হওয়ার পরই যেন প্রাণ ফিরেছে ইআরএলে।

সূত্র জানায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ থেকে ক্রুড অয়েল লাইটারিং শুরু হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়া চালুর সঙ্গে সঙ্গে জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল খালাসও চলছে। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলের জাহাজ দেশে এসেছিল। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর ক্রুড অয়েল নিয়ে কোনো জাহাজ দেশে আসতে পারেনি।

এই হিসাবে প্রায় আড়াই মাসের বেশি সময় পর ক্রুড অয়েলের চালান দেশে এসেছে। কাঁচামাল সংকটে মার্চের শেষদিকে রিফাইনারিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত লো ফিডে চালু রাখা হয়। এরপর ১২ এপ্রিল থেকে প্ল্যান্টটির উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

ইআরএল সূত্র জানায়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা ক্রুড অয়েল সাগরপথে জাহাজে করে এনে পরিশোধন করে ইআরএল। এ রিফাইনারির বার্ষিক শোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন। ক্রুড অয়েল শোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ন্যাপথা, বিটুমিন, এলপিজিসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করছে সংস্থাটি। তবে ডিজেলই উৎপাদন করে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে আরও এক লাখ টন ক্রুড নেওয়ার জন্য ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি জাহাজ ফুজাইরার পথে রয়েছে। এটি ১১ মে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার কথা রয়েছে।

ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শরীফ হাসনাত জানান, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামক জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল নেওয়া শুরু হয়। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি করেছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *