ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ

✍︎ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ✍︎

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়েছে।
 
শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি হামলার বিষয়টি জানান। 

পোস্টে তিনি লিখেন, ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা শুরু করে। প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।

তিনি আরও লিখেন, হামলাকারীরা মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর আমরা বর্তমানে থানায় অবস্থান করছি। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি আবার থানার সামনে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বলেন, আমরা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। আমরা মসজিদেও নিরাপদ না। তাহলে দেশটা কোথায় নিরাপদ?

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পরপরই আইনমন্ত্রীর সন্ত্রাসী বাহিনী, এখানে যে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে আব্দুল মজিদ, যে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের জনক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়কের নেতৃত্বে হকিস্টিক ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমাদের জায়গা থেকে আমরা শান্তি বজায় রেখেছি। আমাদের অনেকের কাছ থেকে ক্যামেরা, ফোন, মানিব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায় তারা। তারা আমাদের ওপর অনেকগুলো ডিম নিক্ষেপ করেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। আইনমন্ত্রীর এলাকায় যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়, তবে আমরা মনে করি আইনমন্ত্রী তার জায়গায় থাকতে পারেন না। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও পদত্যাগ করা উচিত। আইনমন্ত্রীকে দ্রুত পদত্যাগ করিয়ে তাকেও বিচারের আওতায় আনা উচিত। আইনমন্ত্রী যখন সন্ত্রাসী হন, তখন তার হাতে দেশ নিরাপদ নয়। আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আইনমন্ত্রীর বিচার একদিন করব আমরা।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল দাবি করেন, এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ জড়িত নয়।

এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাটওয়ারীকে হত্যা করে বিএনপির ওপর দায় চাপাতে চেয়েছিল জামায়াত-শিবির

জামায়াত-শিবির এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হত্যা করে বিএনপির ওপর দায়  চাপাতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। 

শুক্রবার (২২ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন রাশেদ খাঁন। 

তিনি বলেন, ঝিনাইদহে অস্ত্রধারী দু’জন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে। বর্তমানে তারা শিবিরের রাজনীতি করে। অথচ সারজিস আলম পোস্ট করলো, এই সন্ত্রাসীরা নাকি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হত্যা চেষ্টা করে।  

বিএনপির এই নেতা বলেন, তাহলে জামায়াত-শিবির নাসীরকে কেন, কী উদ্দেশ্যে হত্যার চেষ্টা করলো? বিষয়টা কি এমন যে, নাসীরকে হত্যা করে জামায়াত-শিবির বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করতে চেয়েছিল?  

রাশেদ খাঁন বলেন, বিষয়টা নাসীরুদ্দীনের উপলব্ধি করা উচিত। আগে সে জামায়াত-শিবিরকে ভারতের এক্সটেনশন, ভন্ড, প্রতারক, সংস্কারবিরোধী এমনকি দলের নাম পরিবর্তন ও ইসলাম নাম কেন ব্যবহার করে ইত্যাদি বলেছে। সেই ক্ষোভ মেটাতে এবং বিএনপির ওপর দায় চাপানোর রাজনীতি করছে না তো জামায়াত-শিবির?   

রাশেদ খাঁন অভিযোগ করে বলেন, অথচ সে (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী) দায় চাপাতে চাইলো আইনমন্ত্রী, আমি ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের ওপরে। কিন্তু সত্যতা জাতির সামনে হাজির হয়ে গেল। 

পোস্টের শেষে রাশেদ বলেন, ঠিক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পরে এভাবেই মির্জা আব্বাসের ওপর দায় চাপাতে চেয়েছিল। কিন্তু দেখা গোলো খুনিরা হাদির সঙ্গেই ছিল। ঠিক আজকের অস্ত্রধারীরাও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে ছিল। শহীদ ওসমান হাদির ঘটনার সঙ্গে আজকের ঘটনা হুবহু মিলে যাচ্ছে।   

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *