✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেলকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হত্যার মূল্য রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
এর আগে, সকালে পল্লবী থানার সেকশন-১১-এর ব্লক-বি এলাকায় শিশু লামিসাকে হত্যা করা হয়। শিশুটির পিতার নাম আব্দুল হান্নান মোল্লা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টানা অভিযান চালিয়ে আজ সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হত্যায় অভিযুক্ত সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়।
রাজধানীর পল্লবীতে রামিসা আক্তার (৮) নামে এক শিশুকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর শিশুটির শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাসার খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবেশী সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশ। তবে এর আগেই তার স্ত্রী সম্পাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। সোহেল-সম্পা দম্পতির ঘরে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। সোহেল একটি রিকশার গ্যারেজে কাজ করেন। প্রতিবেশী হওয়ায় রামিসা ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সোহেলের পরিচয় ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রাভেল এজেন্সির কর্মচারী আব্দুল হান্নান পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্লাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। এর পাশের ফ্লাটের তিনটি কক্ষে আলাদা তিন পরিবার বাস করে। একটি ঘরে বাস করে সোহেল-সম্পা দম্পতি। সকালে লামিসাকে বাসায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাইরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশী সোহেলের বাসার বন্ধ দরজায় টোকা দেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কারও সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ এ বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বন্ধ দরজা ভেঙে পুলিশ বাসায় ঢুকে সোহেলের ঘরে রক্ত দেখতে পায়। এর পর প্রথমে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। শরীর বিবস্ত্র ছিল। খাটের নিচে এক কোণায় রঙয়ের খালি প্লাস্টিক বালতির মধ্যে কাটা মাথার সন্ধান মেলে। সোহেলের স্ত্রী সম্পা রান্না ঘরে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগেই সোহেল পালিয়ে যান। অপর দুটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল।
পল্লবী থানা পুলিশ ছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।
