✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কবি আল মুজাহিদী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর ২টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল্লাহ মানসুর।
আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন থেকে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী পলিন পারভীন, ছেলে শাবিব আল মুজাহিদী, মেয়ে মারিয়ামা জাবীন আল মুজাহিদী, নাতি–নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আল মুজাহিদীর মেয়ে মারিয়ামা বলেন, তাঁর বাবা প্রায় দুই বছর থেকে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তাঁর হার্টে দুবার রিং পরানো হয়েছিল। গত বছর জুলাই মাসে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হন। তাঁর কিডনিতেও সমস্যা দেখা দেয়। গত ২৩ এপ্রিল তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ২৬ মে হাসপাতাল থেকে উত্তরার ১০ সেক্টরের নিজ বাসভবনে আনা হয়। পরে আবার অসুস্থ হলে ৪ জুন তাঁকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাঁর কিডনি, হৃদ্যন্ত্রসহ একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা কমে গেছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন।
কবির মেয়ে আরও বলেন, অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৫ জুন আল মুজাহিদীকে আবার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরের দিন থেকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। আজ তিনি গুরুতর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট)। বেলা ১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মারিয়ামা বলেন, আজ বাদ এশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আল মুজাহিদীর জানাজা হবে। এরপরে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর মসজিদে জানাজার পর ওই এলাকায় নিজ বাসভবনে মরদেহ রাখা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর শনিবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কবির মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। সেখানে আল মজুহিদীর মরদেহ জাতীয় প্রেস ক্লাবে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজার পর বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জানাজা হবে। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্তানে তাঁকে দাফন করা হবে।
ষাটের দশকের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা, মুক্তিযোদ্ধা এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৯ জুন) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তারেক রহমান বলেন, কবি আল মুজাহিদী গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে আজীবন সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে আমাদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
কবি আল মুজাহিদীর জন্ম ১৯৪০ সালের ১ জানুয়ারি, টাঙ্গাইলে। তিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশিকাল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রীয় একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদীর কুড়িটির অধিক কাব্যগ্রন্থসহ প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তিনি কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, ছোটগল্প, শিশুতোষ গ্রন্থও রচনা করেছেন।
কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ফেসবুকে শোক জানিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন গভীর শোক জানিয়েছেন।
