✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
পঞ্চগড়ে রিকশাচালক আল আমিনকে গুম করে হত্যার মামলায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাজীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নাইমুজ্জামান পঞ্চগড়ে অবস্থান করছেন বলে জানতে পারে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা শাখা, পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া থানার সমন্বয়ে বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়।
এরপর কুইক রেসপন্স টিমসহ পুলিশের বিশেষ দল পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে। একপর্যায়ে আজ সকাল ৭টার দিকে সদর থানার কাজীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাইমুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়।
পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম জানান, নাঈমুজ্জামানের তিনটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পরে গ্রেফতার করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোশারফ হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পঞ্চগড়ে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার পর নিখোঁজ হন রিকশাচালক আল আমিন। পরে তার বাবা মনু মিয়া গত ১০ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর থানায় গুম ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আল আমিনকে গুম ও হত্যার অভিযোগের এ মামলাসহ বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলাসহ মুক্তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে।
নাইমুজ্জামান মুক্তা পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও আটোয়ারী) আসন থেকে এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
