সাবেক ডেপুটি গভর্নর সুর চৌধুরীর ৩ বছর কারাদণ্ড

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীকে (এস কে সুর চৌধুরী) তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় মঙ্গলবার তাঁকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। 

দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এস কে সুরকে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পৌনে ১১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়, রাখা হয় আসামির কাঠগড়ায়। পরে আদালত রায় ঘোষণা করে।

তিন বছরের সাজা শুনে বিস্মিত হন এস কে সুর। তিনি বলেন, “তিন বছরের সাজা! এই মামলায় না এক বছরের সাজা?”

পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৫ জুলাই এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ যুক্তিতর্ক তুলে ধরে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা প্রার্থনা করেন আদালতের কাছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার আসামির খালাস চান। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন । আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের মার্চে তাঁকে দুদকে তলব করা হয়। এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।

২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। 

অভিযোগ আছে, এস কে সুর ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন এবং সুবিধা নিয়েছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, এসকে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তাঁর ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন তিনি। তবে আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদক মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন। ২৫ আস্ট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *