চকবাজারের আগুন ৫ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে ‘মনজুর খান প্লাজা’ নামের সাততলা ভবনে লাগা আগুন ৫ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রনে এসেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। তবে ঘটনাস্থলে ভিড় করা মানুষের কারণে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এমতাবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে সরে গিয়ে উদ্ধার ও পরবর্তী কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

আব্দুস সালাম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আগুন কীভাবে লেগেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যাবে।

তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করেছে। এখন লোকজন যদি সরে যায়, তাহলে তারা কাজ করার সুযোগ পাবে। আপনাদের মাধ্যমে আমরা অনুরোধ করবো, লোকজন যেন তাদের কাজ করার সুযোগ দেয়, যাতে তারা জায়গাটি পরিষ্কার করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে পারে।

আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সেখানে ব্যাগের একটি কারখানা বা গোডাউন ছিল। আশপাশে কাপড়ের গোডাউনও রয়েছে। ব্যাগের গোডাউন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশাসক বলেন, এই ঘটনা থেকে পার্শ্ববর্তী মার্কেটগুলো যারা আছে তারা যাতে শিক্ষা গ্রহণ করে, এটা জরুরি ব্যাপার। সবাই যাতে যার যার বাড়িতে, মার্কেটে ও ফ্যাক্টরিতে এই অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা রাখে।

নাগরিক সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাস্তার পাশে দোকান বসে থাকে। দোকানের পাশে ফুটপাতে আরেকটা বসে থাকে। এসব কারণে রাস্তাগুলোর চলাচল বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এসব কারণে অনেক সময় ফায়ার ব্রিগেড ঠিকমতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে না। রাস্তাগুলো যাতে যথাযথভাবে পরিষ্কার রাখেন সেজন্য আহ্বান জানাব।

এর আগে, বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারে সাততলা একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত মনজুর খান প্লাজার মার্কেটে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে পাশের আরেকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ইউনিটের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মনজুর খান প্লাজার দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত দোকান ও পঞ্চম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউনে ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য মজুত করা হয়। অধিকাংশ গোডাউনই মালামালে পরিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজ বিকেলে ভবনটির ষষ্ঠ তলার এক পাশে প্রথমে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর দোকান ও গোডাউনের মালিক-কর্মচারীরা সেগুলো বন্ধ করে বেরিয়ে যান। অধিকাংশ গোডাউন তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়। গোডাউনগুলোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল থাকায় আগুনের তীব্রতাও বাড়তে থাকে।

সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বিকেল ৫টা ২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। ৫টা ৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ করলেও পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *