কারিগরি ত্রুটি ও কয়লাসংকটে বন্ধ ২ বিদ্যুৎকেন্দ্র

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

কারিগরি ত্রুটি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ-ঘাটতির কারণে রাজধানীসহ সারা দেশে নতুন করে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই আশঙ্কার কথা জানান। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির নাম প্রকাশ করেননি মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি বন্ধ হওয়ার পেছনে দুটি ভিন্ন ভিন্ন কারণ রয়েছে।

একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে আকস্মিক ‘লিক’ বা ছিদ্র ধরা পড়েছে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে বাধ্যতামূলকভাবেই সেটির উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে।

অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় লাইটার জাহাজ থেকে কয়লা খালাস (আনলোড) করা সম্ভব হয়নি। জ্বালানিসংকটের কারণে এই কেন্দ্রের উৎপাদনও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

এই দুইয়ে মিলে একযোগে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন থেকে ছিটকে গেছে, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় বড় একটি ধাক্কা।

বিদ্যুৎ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি জাতীয় সংকট। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই সংকট উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করি।’

মন্ত্রী আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইতিপূর্বে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে চান। তিনি বলেন, আপৎকালীন মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং সমুদ্রের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুই দিনের মধ্যেই এই পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে এবং তা হলে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের প্রকোপ অনেকটাই কমে আসবে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে এবং ঢাকাতেও লোডশেডিং দিতে হবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *