বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো অনুরোধের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে কাতার পুলিশ। দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান এ কথা জানিয়েছেন। 

ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে সাইদুর রহমান খান বলেন, শনিবার অনানুষ্ঠানিকভাবে হান্নানের গ্রেফতারের খবর পায় দুদক। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি কাতারের দোহায় গ্রেফতার হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছে দুদক।

শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দুদক সচিব সাইদুর বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে দুদকের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছে। সেসব তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

শেখ আব্দুল হান্নান ২০২১ সালের ১২ জুন থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুন পর্যন্ত বিমান বাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। 

দুদকের উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের পক্ষ থেকে তখন সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল যে, আব্দুল হান্নানের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার সম্পদের খোঁজ তারা পেয়েছে। সেইসঙ্গে, তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। এরপর তাদের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, কাতারে অবস্থিত আব্দুল হান্নানকে ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল দুদক।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার লেনদেন সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই মামলায় তাহমিদা বেগমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং তাকে সহায়তা করার অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *