✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেতা।
দবিরুল ইসলামের একান্ত সহকারী কামরুজ্জামান শামীম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে দবিরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন।
প্রায় দেড় বছর অসুস্থ অবস্থায় কারাভোগের পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন দবিরুল ইসলাম।
তবে বাবার মুক্তি মিললেও ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দবিরুল ইসলামের ছেলে মাজাহারুল ইসলাম সুজন এখনো দিনাজপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৬ সালে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে ‘চাবি’ প্রতীক নিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দলটির জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় এক অপরাজেয় রাজনৈতিক দুর্গ গড়ে তোলেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দবিরুলের বদলে তার ছেলে মাজহারুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে মাজহারুল ইসলাম জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্য অনেক নেতার মতো দবিরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই বছরের ২ অক্টোবর দিবাগত রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারের পর থেকেই তীব্র অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও–২ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
এরপর ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
