প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে স্থানীয় কারফিউ জারি

✍︎ নাগরিক নিউক ডেস্ক ✍︎

দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি প্রতিরোধ করতে প্যারিস, লিল, নিসসহ বিভিন্ন শহরে স্থানীয় কারফিউ জারি করেছে ফ্রান্স সরকার। বিভিন্ন শহরের সংঘাতপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর থাকবে এই কারফিউ।

প্যারিসের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকোর্নু এক আদেশে এই কারফিউ জারি করেছেন। তবে জরুরি অবস্থা এখনও ঘোষণা করেননি তিনি।

কারফিউ জারি করার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে লেকোর্নু বলেন, “সরকার দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে অবিচল। আমরা এখনও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছি না; কারণ আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতিতে আংশিক ও স্থানীয় পর্যায়ে কারফিউ জারি করাই বেশি যৌক্তিক।”

প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, সরকারের কারফিউ আদেশের আওতায় রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ‘প্লাস দে লা রিপাবলিক’ ও ‘লে হাল’ এলাকায় রাত ১১টা থেকে কারফিউ জারি করা হয়েছে। উভয় বিধিনিষেধই মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

“এসব পদক্ষেপ কঠোরভাবে কার্যকর করতে উক্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে”, সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে প্যারিস পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু’র দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় মেয়রদের সম্মতিক্রমে লিল, দুয়ে, ওয়াটিনি ও দেনেইন শহরে মঙ্গল ও বুধ— এ দু’দিনের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ আরোপ করা হয়েছে।

নিস শহরের মেয়র এরিক সিওত্তি অনলাইনে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে, তিনি নিস শহরের কেন্দ্রস্থলে রাতের বেলা অপ্রাপ্তবয়স্কদের চলাচলের ওপর কারফিউ জারির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

মার্সেই শহরে সব ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে, ফরাসি শ্রমিক ইউনিয়নগুলো আগামী ৫ নভেম্বর নতুন করে ধর্মঘট ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে।

ফ্রান্সে লুটপাট-সহিংসতা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির  অবনতির এই চিত্র দেখা গেছে গত শনি ও রোববার। তার আগে দেশের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল।

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ অস্থিরতার জন্য ফ্রান্সের কট্টর বামপন্থি দলগুলোকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “আসলে একটি উগ্র-বামপন্থী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা—সহজ কথায় বলতে গেলে—প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশে গভীর অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।”

উগ্র-বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ তাকে এর সপক্ষে প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় লেকর্নুকে লক্ষ্য করে তিনি লিখেছেন, “যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তার স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে হবে তাকে। অন্যথায় তার উচিত ক্ষমা চাওয়া, চুপ থাকা এবং অস্থিরতার আগুনে ঘি ঢালা বন্ধ করা।”

ফ্রান্সের খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফেডারেশন অফ ট্রেড অ্যান্ড রিটেইল জানিয়েছে, শনি ও রোববার রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে প্রায় ৩০০০ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, “লুটপাটের শিকার প্রতিটি দোকানের পেছনে রয়েছেন ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাদের পরিবার—যাদের বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।”

তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও কর ছাড়ের দাবি জানিয়েছে ফেডারেশন অফ ট্রেড অ্যান্ড রিটেইল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৩৯৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার এক বিক্ষোভকারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং প্রায় ১০০০ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *