✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান বিস্তার, সশস্ত্র হামলা ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স’ বা বিশ্ব সন্ত্রাস সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকিতে তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শক্তি ভারত সন্ত্রাসী সহিংসতার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় ১৩তম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ৪২তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণাসংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস’ বিশ্বজুড়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনা ও নিরাপত্তার সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাকিস্তান বর্তমানে চরম সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোর ধারাবাহিক সশস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা দেশটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উন্মোচিত করেছে।
বিশ্ব সন্ত্রাস সূচকে ভারতকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের শ্রেণিভুক্ত করে ১৩তম স্থানে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। ভারত শাসিত কাশ্মীরে নিয়মিত সীমান্ত সহিংসতা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সক্রিয় মাওবাদী-নকশালপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমাগত সশস্ত্র কার্যক্রম ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।
এছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বৃদ্ধি পাওয়া ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ভারতের এই নাজুক অবস্থার বিপরীতে তালিকায় ৪২তম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ, যা বিশ্বব্যাপী ‘মাঝারি থেকে কম’ ঝুঁকির পর্যায়কে নির্দেশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দৃশ্যমানভাবে কম। গত কয়েক বছরে জঙ্গি দমন ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে দেশটি নিরাপত্তা সূচকে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
