ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্টের একটি রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন গাউট আউট (Gout Gout)। অস্ট্রেলিয়া অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল সিডনির প্রতিকূল আবহাওয়ায় ১৮ বছর বয়সী এই স্প্রিন্টার ২০০ মিটার দৌড় শেষ করেছেন মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ডে। এতেই ভেঙে গেছে বোল্টের গড়া ২২ বছর আগের রেকর্ড।
এর আগে ২০০৪ সালে জ্যামাইকান গতিতারকা ১৯.৯৩ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড় শেষ করেছিলেন, যা অনূর্ধ্ব-২০ প্রতিযোগিতায় বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি পেয়েছিল। সেই সময় তার বয়সও ছিল ১৮ বছর। একই বয়সে বোল্টের চেয়ে জোরে দৌড়েছেন গাউট গাউট।
প্রতিযোগিতায় গাউটকে টক্কর দিয়েছিলেন এইডান মারফি নামে আরেক স্প্রিন্টার। মারফি মোড় ঘোরার সময় প্রবল গতিতে ছুটে চলেন, মাঝপথে এগিয়েও যান। তবে শেষমেষ তিনি গাউট গাউটের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে ১৯.৮৮ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন।
ইতিহাস গড়ার পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে গাউট গাউট বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আমরা একে-অপরকে উৎসাহিত করি। দুজন অস্ট্রেলিয়া ২০ সেকেন্ডের কম সময়ে দৌড় শেষ করেছে—এটা অবিশ্বাস্য।’
গাউট গাউটের পায়ের লম্বা ধাপ, সোজা হয়ে দৌড়ানোর ভঙ্গি এবং দৌড়ের শেষ দিকে গতি বাড়ানোর কারণে তাকে ‘পরবর্তী বোল্ট’ মনে করা হচ্ছে।
গাউট গাউটের জন্ম অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের ইপ্সউইচ শহরে, ২০০৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর। তবে তার মা-বাবার জন্ম দক্ষিণ সুদানে। ২০০০ সালে তার পরিবার মিসর হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যায়।
গাউটের বয়স মাত্র ১৮ বছর। তার আগুনে গতির সামনেই ম্লান হয়ে গেল ২৩ বছর বয়সের আগে বোল্টের নজির। সেবার ১৯.৯৩ সেকেন্ডে ২০০ মিটার টাইমিংয়ে ফিনিশিং লাইন শেষ করেছিলেন জ্যামাইকান কিংবদন্তি। এই দৌড়ের আগে গাউটের ব্যক্তিগত সেরা সময় ছিল ২০.০২ সেকেন্ড। অল্প সময়ের ব্যবধানে নিজের সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন অজি স্প্রিন্টার। ফাইনালে শুরুর দিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত গাউট চলে যান ধরাছোঁয়ার মধ্যে। বাঁক পেরিয়ে শেষ ১০০ মিটারে তিনি গতি বাড়িয়ে অন্যদের ছাপিয়ে যান। এইডান মারফি ১৯.৮৮ সেকেন্ড সময়ে দৌড় শেষ করে দ্বিতীয় এবং ক্যালাব ল ২০.২১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
গত কয়েক বছরে জুনিয়র বিভাগ থেকে উঠে এসে দ্রুতই সিনিয়র পর্যায়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন গাউট। তিনিই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে আলোচিত অ্যাথলেটদের একজন। অভিজ্ঞ প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে নিয়মিত প্রতিযোগিতা তার পারফরম্যান্সকে আরও পরিণত করেছে। মূলত ট্র্যাকের রেসের দ্বিতীয় ভাগে নিজের সেরা ছন্দে আসার জন্য সুখ্যাতি রয়েছে তার। ২০০ মিটার ইভেন্টে সফল হতে গেলে বাঁক ঘোরার সময় ভারসাম্য বজায় রাখা এবং শেষ ল্যাপে গতি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কাজটাই নিখুঁতভাবে করে থাকেন গাউট।
এত অল্প বয়সেই এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর তরুণ প্রতিভান এই স্প্রিন্টারকে নিয়ে অ্যাথলেটিক্স মহলে প্রত্যাশা বাড়ছে। ইংরেজি বানান অনুযায়ী এই তরুণ স্প্রিন্টারের নামের উচ্চারণ ‘গাউট’ হলেও, প্রকৃত উচ্চারণ ভিন্ন। তার বাবা বোনা গুওটের কথায়, দক্ষিণ সুদান থেকে মিশরে যাওয়ার সময়, অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে সরকারি নথিতে ভুলবশত তার নামের বানান ‘Gout’ লেখা হয়। আসলে নামের সঠিক উচ্চারণ ‘গুওট’। তবে সেই ভুল বানানই এখন পরিচয়ের অংশ হয়ে গেল। বর্তমানে ‘গাউট গাউট’ নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই উদীয়মান স্প্রিন্টার।র্তে আগস্টের শুরুতে ওরেগনে হতে যাওয়া বিশ্ব অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের সবটুকু মনোযোগ দিতে চান তিনি।
