একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি: ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

খসড়া নীতিমালায় ৭ শতাংশ আসন কোটার জন্য রেখে বাকি ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই নীতিমালায় ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই কেবল এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। 

সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ইতোমধ্যে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে একাদশে ভর্তির যোগ্যতা, বিভাগ নির্বাচন, মেধাক্রম, কোটা, অনলাইন আবেদন, ভর্তি ফি, কলেজ পরিবর্তন এবং অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়। অনুমোদনের আগে প্রস্তাবগুলোতে পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে।

খসড়া অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাবর্ষে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং ধারাবাহিকভাবে তার আগের দুই বছরে দেশের যেকোনো শিক্ষা বোর্ড কিংবা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি কোনো বোর্ড বা সমমানের প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে তাদের সনদের সমমান নির্ধারণ করবে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। সমমান নির্ধারণের পর তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

বিভাগ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন। মানবিক বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের যেকোনো একটিতে এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগের যেকোনো একটি থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগের যেকোনো একটিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন। সাধারণ ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া অন্য যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যেকোনো বিভাগে ভর্তির আবেদনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর দাখিল (ভোকেশনাল) গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান, সাধারণ ও মুজাব্বিদ মাহির গ্রুপের যেকোনো একটিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।

একাদশে ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। অর্থাৎ প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একাদশে ভর্তির জন্য আলাদা কোনো ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন থাকবে না।

আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব আসনে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। এর বাইরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সব মিলিয়ে এই দুই শ্রেণির জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই সংরক্ষিত আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দপ্তরপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজেই দপ্তরপ্রধান হলে তার এক ধাপ ওপরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে ওই আসন খালি রাখা যাবে না। মেধাতালিকা থেকে ওই আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ৩.২ ধারায় বর্ণিত কোটা পদ্ধতি শুধুমাত্র ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিস্তারিত পদ্ধতি রাখা হয়েছে। সমান জিপিএ হলে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বরও সমতুল্য করে হিসাব করার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও জটিলতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে পাওয়া নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করার প্রস্তাব রয়েছে। এক বিভাগের শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে একই জিপিএ হলে সর্বমোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। জটিলতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করা হবে।

স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান-নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে নিজ নিজ বিভাগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি হতে পারবেন। নিজস্ব শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করার পর অবশিষ্ট শূন্য আসনে অন্যান্য শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সব ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।

খসড়ায় সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে একাদশে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কলেজকে ভর্তি-সংক্রান্ত সব তথ্য ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত আসন, তালিকা ও সময় অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান বোর্ড নির্ধারিত আসন, তালিকা ও সময়ের বাইরে নিজস্ব সিদ্ধান্তে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ভর্তির সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রত্যেক বোর্ডকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময়সূচি ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পূর্বানুমোদন নেওয়ার কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। 

শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ভর্তি-সংক্রান্ত সব কার্যক্রমও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে। ভর্তির ফি বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি নির্ধারণ করবে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুমোদন নিয়ে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে কলেজকে বোর্ড নির্ধারিত আসন সংখ্যা; বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ; শিফট; ছাত্র-ছাত্রী বা সহশিক্ষা; ভার্সন; বোর্ড নির্ধারিত ভর্তি ফি; অনুমোদিত অন্যান্য ফি এবং ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এসব তথ্য প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। অনলাইনে বোর্ড থেকে পাওয়া ভর্তিযোগ্য প্রার্থীদের মেধাক্রম তালিকাও কলেজের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

বোর্ড নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। একইভাবে যে বিষয়ে পাঠদানের অনুমতি নেই, সেই বিষয়েও শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। বোর্ডগুলো নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব বিধান বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ভর্তির সময় শিক্ষার্থীকে অনলাইনে পাওয়া মার্কশিট দাখিল করতে হবে। পরে বোর্ড থেকে মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা নম্বরপত্র পাওয়ার পর তা দাখিল করতে হবে।

সরকারি কলেজগুলো সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি সংগ্রহ করবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যত দূর সম্ভব ফি মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বেসরকারি কলেজে ভর্তি কার্যক্রমের আগেই ভর্তি ফি, মাসিক বেতন এবং অন্যান্য যাবতীয় খরচের তালিকা নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বোর্ড অনুমোদিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না। অনুমোদিত সব ফি যথাযথ রসিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।

খসড়ার সংযুক্ত ফি কাঠামো অনুযায়ী, অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীপ্রতি ভর্তি ফি ২২০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রেড ক্রিসেন্ট ফি বাবদ ২৪ টাকা গ্রহণ করবে। প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি বাবদ ৪০০ টাকা বোর্ডে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীপ্রতি মোট ৩৪০ টাকা গ্রহণ করবে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, রোভার বা রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা ভাতা ফি ১০০ টাকা।

খসড়ার সংযুক্ত অংশে এমপিওভুক্ত এবং নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্যও সেশন চার্জ, ভর্তি ফি ও উন্নয়ন ফি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব ফি ঢাকা মেট্রোপলিটন, ঢাকার বাইরের মেট্রোপলিটন, জেলা ও উপজেলা বা মফস্বল এবং বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনভেদে আলাদা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে কলেজ, বিভাগ ও বিষয় পরিবর্তন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফি দিতে হবে। তবে অন্য কোনো বিভাগ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। আবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিভাগে ফিরে আসতে পারবেন না।

কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না। কোনো অজুহাতেও শিক্ষার্থীর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে রাখা যাবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

কলেজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বোর্ডের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া একাদশে ভর্তি হওয়া কোনো শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র বা টিসি ইস্যু করা যাবে না। আবার বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের ইস্যু করা ছাড়পত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। টিসির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি হলে ভর্তির ১৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।

অনুমতি বা স্বীকৃতিবিহীন কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশে ভর্তি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবও রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানের স্থাপনের অনুমতি আছে কিন্তু পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি নেই, সেই প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি বা স্বীকৃতি থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা শাখাতেও শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। অননুমোদিত কোনো বিষয়েও শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।

নীতিমালাটি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভর্তির ক্ষেত্রে নীতিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করা হলে বেসরকারি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলের পাশাপাশি এমপিওভুক্তি বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে বোর্ড নির্ধারিত ফির বিবরণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খাতওয়ারি আদায় করা অন্যান্য ফির বিবরণও আলাদাভাবে জমা দিতে হবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *