𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শূন্যপদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদ পূরণে ধাপে ধাপে নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শূন্যপদ পূরণের জন্য ইতোমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন ২ হাজার ৮৭৯টি পদে, এক বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি পদে এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, কর্মপরিকল্পনায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ লক্ষ্যে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শূন্যপদের সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়োগের অগ্রগতি জানাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সংসদে প্রতিমন্ত্রী উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ‘স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’ অনুযায়ী দেশে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ, দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং সপ্তদশ থেকে বিংশ গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি শূন্যপদ রয়েছে।
এ ছাড়া অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন শ্রেণিতে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার পর্যায়ক্রমে এসব শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে, প্রথম শ্রেণি (১ম-৯ম গ্রেড) ৬৮,৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণি (১০ম-১২তম গ্রেড) ১,২৯,১৬৬টি পদ। ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১,৪৬,৭৯৯টি পদ। ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড ১,১৫,২৩৫টি পদ। অন্যান্য ৮,১৩৬টি পদ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি তদারকির জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা ও দক্ষতাই হবে নিয়োগ ও পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা ভিত্তিক নিয়োগ হচ্ছে। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।
এমপি হারুন-অর-রশিদের এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারী জানান, বিসিএস পরীক্ষায় মুখস্থ নির্ভরতা কমাতে সিলেবাস পরিবর্তনের কাজ চলছে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পর্যালোচনা করছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর জ্ঞান ও মনোভাব যাচাইয়ে ‘যোগ্যতা-ভিত্তিক সাক্ষাৎকার’ চালু এবং এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসনে ১২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জনকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জনকে ওএসডি করা হয়েছিল। এছাড়া গত সরকারের সময় নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিষয়ে দুদক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বলেন, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে।
তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রাপ্তির পর আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বলেন, বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত মুখস্থনির্ভর সিলেবাসের পরিবর্তে স্কিল-বেজড বা দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন করা বর্তমান কমিশনের একটি অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে কমিশন বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তনের জন্য একটি কমিটি করেছে, যা বিভিন্ন দেশের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় সংশোধন/সংযোজন করার আশা করছে। মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কমিশন অচিরেই যোগ্যতাভিত্তিক সাক্ষাৎকার চালু করতে যাচ্ছে। যাতে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা এবং মনোভাব মূল্যায়ন করা হবে। এ ছাড়া নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা হ্রাস করে বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
