জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান। একই সঙ্গে তাকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন আইরিন খান।

বুধবার (৮ জুলাই) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এতে বলা হয়, আইরিন খান এ পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইরিন খান। প্রথম নারী হিসেবে সংস্থাটির নেতৃত্ব দেন তিনি। তার অধীনে অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ জোরদার করে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার বিষয়গুলোও তাদের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়। নারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধে অ্যামনেস্টির প্রথম বৈশ্বিক প্রচারণাও শুরু হয়েছিল তারই হাত ধরে।

২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইরিন খান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এটি একমাত্র আন্তসরকারি সংস্থা, যা শুধু আইনের শাসন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

এই পদে থাকাকালে তিনি ২০১৯ সালে জাতিসংঘের ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-১৬’ পর্যালোচনার প্রস্তুতি সম্মেলন, ২০১৮ সালে নারীদের ন্যায়বিচারবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের গ্রুপ এবং ২০১৬ সালে আফ্রিকায় আইনের শাসনবিষয়ক সম্মেলনের সহ-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ন্যায়বিচারের সুযোগ বাড়ানো এবং এসডিজি-১৬–এর লক্ষ্য অনুযায়ী শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিশেষ কাজ করেছেন।

২০১০ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দ্য ডেইলি স্টারের ‘কনসাল্টিং এডিটর’ হিসেবে কাজ করেন আইরিন খান। সেখানে তিনি মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও নারী-পুরুষের সমতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেছেন। স্বাধীন সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করেছেন তিনি। এ ছাড়া তিনি ২০১১ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক ল স্কুলের ভিজিটিং প্রফেসর এবং ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আইরিন খান তার পেশাদার কর্মজীবন শুরু করেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মাধ্যমে। সদর দপ্তরসহ নানা দেশে ২১ বছর এই সংস্থায় কাজ করেছেন তিনি। এ সময় তিনি ভারতে ইউএনএইচসিআরের ‘চিফ অব মিশন’ (মিশনপ্রধান) এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষাবিষয়ক বিভাগের উপপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।

আইরিন খান কলাম্বিয়া গ্লোবাল ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন প্রোগ্রামের গ্লোবাল ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন অ্যাওয়ার্ড জুরিবোর্ডের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের জেন্ডার অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল, ইউএনএইডস-এর এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকারবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল এবং ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (ওডিআই), বাংলাদেশের ব্র্যাক এবং উগান্ডার বেয়ারফুট লর গভর্নিং বোর্ডের (পরিচালনা পর্ষদ) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে ‘সিডনি পিস প্রাইজ’সহ একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন আইরিন খান। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আইরিন পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুলে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *