ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

স্পিকার বলেন, ‘সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছি।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকারের শপথ নেওয়ার সময় আমি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়েছিলাম। কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারি। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের শপথের সময় বলা হয়েছে, কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের পদের দায়িত্ব পালন করবেন।’

এ সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন স্পিকার।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল।

দুদিন ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করা হয়নি। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ দুপুরের দিকে নির্ধারিত সফরসূচির দুদিন আগেই দেশে ফেরেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সদ্য পদত্যাগকারী মো. সাহাবুদ্দিন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছেন তার প্রতি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সবসময়। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার মনে হয় তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছেন তার প্রতি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সবসময়। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের দফা তিন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদপত্র আজ ২৪ জুলাই  ৫টা ১ মিনিটে আমার নিকট পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পদ্ধতি আমি গ্রহণ করেছি।

স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পত্র জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন এটি নিশ্চয়ই জানার কৌতুল আপনাদের মধ্যে রয়েছে। তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ, হৃদরোগ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রের বাইপাস সার্জারি হয়েছেন। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষার অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামে রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন।

হাফিজ উদ্দিন জানান, এসব রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানের পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এ কারণে তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এই পদত্যাগ পদত্যাগপত্র আমি গ্রহণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ইতোমধ্যে আপনারা জানেন যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও শপথ নিয়েছি। যদি প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকারও যখন শপথ গ্রহণ, তখন স্পিকার হিসেবে শপথের অংশে বর্ণিত থাকে। বলা থাকে যখন স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে তখন ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের পদ পদের দায়িত্ব পালন করবেন।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা, এর সাথে দেশের ভালো মন্দ জড়িত। রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ। তিনি অসুস্থ হতেই পারেন এবং তিনি রোগেরও নাম প্রকাশ করেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি কি কি রোগে ভুগছেন এবং মাঝে মাঝে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এর জন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি যেখানে নিজেই এটি দাবি করেছেন। সুতরাং আমরা আশা করি এই পদত্যাগের ফলে সকল বার্তা পরিষ্কার হলো।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের একজন সম্মানিত, তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন এবং এই চেয়ারটা কখনো শূন্য থাকে না। আমি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি, এটিই বাস্তবতা। আশা করি সব ধরনের কনফিউশন এখন থেকে দূর হয়ে যাবে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন- রাষ্ট্রপতি শুধু পদত্যাগ করলে হবে না সাতদিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে- বিষয় মতামত জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন,  এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নাই।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *