■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
ইসরায়েলের তেল আবিবে রকেট হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। ইসরায়েলের নতুন করে স্থল ও আকাশপথে হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি বৃদ্ধির প্রতিশোধে এই হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে শুরু করা হামলায় গাজায় দুদিনে ১৯০ জনেরও বেশি শিশুসহ ৯৭৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালের দিকের হামলায় আরও প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাশেম ব্রিগেড বলেছে, গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিশোধে তারা তেল আবিবে রকেট নিক্ষেপ করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী (আইএএফ) ক্ষেপণাস্ত্রটি ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই তা প্রতিহত করেছে। এই ঘটনার পর কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলাকে কেবল শুরু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং হামাসকে তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে আরও তীব্র হামলার হুমকি দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করার দাবি করেছে। এই ঘটনায় সাইরেন বেজে ওঠে, তবে কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, গাজা থেকে ছোড়া একটি প্রোজাক্টাইল আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য দুটি প্রোজেক্টাইল জনবসতিহীন উন্মুক্ত একটি এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে এই হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার ভোরের দিকে গাজা উপত্যকায় নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।
গত ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গাজায় অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
গাজার বাসিন্দা মোহাম্মদ হুসেইন এএফপিকে বলেছেন, আমরা যুদ্ধবিরতি চুক্তি চাই। আমরা যুদ্ধবিরতি চাই। গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিরক্ষাহীন ফিলিস্তিনি।’’
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার প্রধান ভূখণ্ডের উত্তর ও দক্ষিণের মাঝে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এএফপি বলেছে, গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের কাছের সালাহেদ্দিন রোড ধরে দক্ষিণের দিকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে ফিলিস্তিনিদের।