✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় হামলা ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার অভিযান পরিচালনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগের শর্টসার্কিট থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের ৩টি ময়লা ফেলার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি ভেকু (এক্সাভেটর) এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন তারা।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, দুপুর ১২টার পরও উত্তেজনা চলছিল। তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। অন্যদিকে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পুলিশের সদস্যদের চেয়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সংখ্যায় বেশি ছিল। তাদের ইটপাটকেলের মুখে পুলিশ পিছু হটে।
হকাররা জানান, সকালে সিটি করপোরেশনের লোকজন ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করতে আসেন। হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করতে গিয়ে সেখানে বিদ্যুতের তার থেকে আগুন ধরে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন হকাররা। পরে সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন তারা।
সকাল পৌনে ১১টার দিকে হোপ মার্কেটের দিক থেকে দৌড়ে মিরপুর ১৩ নম্বরের দিকে যাচ্ছিলেন কিছু আনসার সদস্য। ২০ থেকে ৩০ জন লোক তাদের দিকে লাঠি ও ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারছেন।
হোপ মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পশ্চিম পাশের একটি জায়গায় আগুন জ্বলছে। এ সময় মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে পুলিশের পিক-আপ গেলে হকাররা সেটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তার কয়েক মিনিট পরই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি যায় আগুন নেভাতে।
প্রায় ১৫-২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। সেখানে বিভিন্ন মালামাল ছিল বলে জানান হকাররা। এ সময় কয়েকশ হকার সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সিটি করপোরেশনের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের বলেন, ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মিরপুর ১৪ নম্বরের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
