ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ন্যুনতম স্নাতক পাস নিশ্চিত করতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খানের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ।

রুলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর অধীনে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে স্নাতক) নিশ্চিত করার জন্য কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন এবং এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান একজন চেয়ারম্যানের গ্রাম আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা আছে উল্লেখ করে বলেন, ‘তিন লাখ টাকা মূল্যের মামলা পরিচালনা করতে পারেন একজন ইউপি চেয়ারম্যান। অথচ এ ক্ষমতা যে ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে, তাকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করে বিজেএসসি (বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। অথচ এখানে চেয়ারম্যানের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। তাই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এ চেয়ারম্যানের যোগ্যতা সংক্রান্ত ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আমরা চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক চেয়েছি।’

প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ‘প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নাই।’

বুধবার নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান আনোয়ারুল ইসলাম।

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুলের বিষয়ে জানতে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এটা দেখতে হবে। দেখার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কী অবস্থা আছে এবং এই সম্পর্কিত আর কোনো আইনের রুলিং বা জাজমেন্ট আছে কি না, সেগুলো দেখে পরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ১২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিদ্যমান স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন; জেলা পরিষদ; উপজেলা; পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনের একাধিক বিধান পরিবর্তনে সরকারকে সুপারিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আইন সংশোধনের প্রস্তাবের কারণে নির্বাচন পেছাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এটির সঙ্গে নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো সংশোধন হয়, সে আইনেই বলা থাকবে যে এটি কবে থেকে কার্যকর। আর যদি সংশোধন না-ও হয়, বিদ্যমান আইন তো রয়েছেই। এই মুহূর্তে যেই আইন রয়েছে, সেটিও দুর্বল না; এই আইন দিয়েও নির্বাচন করা সম্ভব।

ইসি বলেন, আমরা চিন্তা করেছি, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তিতে কিছু কনফিউশন ছিল। সেই জিনিসগুলো যাতে এভোয়েড করা যায়, সে জন্য কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধন হলে সেই অনুযায়ী হবে, না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী হবে। এতে করে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।

বিদ্যমান আইনেও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরা স্বীয় পদে থেকে নির্বাচন করার বিধান আছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে বিষয়টা যাতে পরিষ্কার হয়, সেই ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমরা প্রস্তুত। আমরা আশা রাখি যে, অক্টোবরে হয়তো প্রথম ধাপের নির্বাচন আমরা করতে পারব। এ উপলক্ষে আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে পারব।’

বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো একাধিক ধাপে ভোট গ্রহণ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কম সময়ে যাতে বেশি নির্বাচন করা যায়, সে পরিকল্পনা করছি।’

প্রথম ধাপে কোন নির্বাচন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে এ কমিশনার বলেন, ‘যেসব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নাই, আইনগতভাবে মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেব।’

এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নাকি উপজেলা নির্বাচন আগে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে বলব না। আইনশৃঙ্খলা শতভাগ নিশ্চিত করে যেই যেই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ওঠানো সম্ভব হবে, সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে আগে করব। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদা আলাদা ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি কোনো যোগাযোগ এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ থাকবেই।

স্থানীয় সরকারের সব আইনের সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করার সুপারিশের বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেটাকে সামনে রেখে আমরা যে যে স্টেপ নিয়ে সফল হয়েছি, সেই স্টেপগুলো এখানেও নেব। প্রয়োজনে এর চেয়েও বাড়তি স্টেপ নেব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে নির্বাচনে যে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছি, তার কোয়ালিটি যাতে উত্তরোত্তর আরও ভালো হয়।

সহিংসতা কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকবে। নির্বাচন কমিশন মনে করে যে, রাজনৈতিক কালচারটা গত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে এবং এটি বজায় রাখার জন্য কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা রাখবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *