✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
বৈশাখের টানা বৃষ্টির কারণে সুরমা, কুশিয়ারা, ধনু, বাউলাই, ভুগাই ও কংস নদের পানি বাড়ছে। ফলে উত্তর-পূর্বের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলায় বন্যাও হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুধবার সকালে আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগেই আগামী ৩ মে পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল নিকলীতে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ১১৫ মিলিমিটার; কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১০৩; ভোলায় ১৫১; পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১১৪ এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও আকাশ রয়েছে মেঘে ঢাকা।
বৈশাখের মাঝামাঝি এই সময়ে ভারী বৃষ্টির কারণ সম্পর্কে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশের ভেতরে যে গভীর সঞ্চরণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে। এই মেঘ সরতে সময় নিচ্ছে। এ ছাড়া একটি সিস্টেম তৈরি হয়েছে সাগরে, এরও প্রভাব আছে।
এ ধরনের আবহাওয়া বছরের এ সময় অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।
সকালে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘আমাদের দেশে এপ্রিল-মে মাসে (বৈশাখ) ভারী বৃষ্টি হয়ে থাকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে একটি ঘূর্ণিবায়ুর আবর্তন হয়েছে। এ কারণে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তবে একটানা বা একযোগে বৃষ্টি হবে হবে। থেমে থেমে বৃষ্টি হবে।’
ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হতে পারে, এমনকি শিলাবৃষ্টির কথাও জানান ড. আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বলেন, বৃষ্টি কেবল বাংলাদেশেই নয়, উত্তর পূর্ব ভারতের মেঘালয়, আসাম, মণিপুর, মিজোরামেও হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে বন্য হতে পারে।
এদিকে এপ্রিল মাসের আবহাওয়ায় আউটলুক অনুযায়ী, চলতি মাসে মোট বৃষ্টি হতে পারে ১৩০ মিলিমিটার। তবে আসছে মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি আরও বাড়বে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মে মাসে বাংলাদেশে গড়ে ১৩০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুনে, যার গড় পরিমাণ ৪৫৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার।
