ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার ভোরের দিকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীও ইয়েমেন থেকে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার আগে ইসরায়েলজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের বিমান বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতি করেছে বলে সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির কয়েক দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রোববারের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গাজায় গত মঙ্গলবার ইসরায়েল নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করায় এর পাল্টা হিসেবে ইসরায়েলে হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এর আগে, শুক্রবার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে ইয়েমেন থেকে ছোড়া আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি জানানো হয়।

শনিবার সকালের দিকে ইসরায়েলের বেন গুরিওন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথি বিদ্রোহীরা। গত দুদিনের মধ্যে তৃতীয় বারের মতো ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানায় ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী।

বিবৃতিতে হুথি গোষ্ঠী বলেছে, গাজার বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি আকাশসীমা অনিরাপদ থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা শুরু করে।

গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, হুথিদের সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হবে এবং এই গোষ্ঠীকে অব্যাহত সহায়তা দেওয়ায় তেহরানকেও সতর্ক করে দেন তিনি।

সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। তারা দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করেছে। বিশেষ করে, সৌদি আরবের কাছে এটি একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ সৌদি আরবের নিরাপত্তা স্বার্থ এতে সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে। হুতি গোষ্ঠীর মূল সমর্থক দেশ ইরান। এরই মধ্যে তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বু মনসুর হাদি দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়। তখন থেকেই ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের উত্তাপ বাড়ে। ২০১৫ সালে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। তবে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ফলে দেশটি বিপুল মানবিক সংকটের মধ্যে পড়ে।

হামাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায়। এতে নিহত হন এক হাজার ১৩৯ জন। হামাস ইসরায়েল থেকে আড়াইশ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়।

পরে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৯ হাজার ৬১৭ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং এক লাখ ১২ হাজার ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।

গাজার সরকারের তথ্য অফিস নিহতের সংখ্যা হালনাগাদ করে বলছে, নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ জন ছাড়িয়েছে। তারা বলেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা হাজারো নিখোঁজ ফিলিস্তিনিকেও মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও তা উপেক্ষা করেই হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ফলে ফিলিস্তিনিরা আবারও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।

ইসরায়েল যেসব এলাকাকে যুদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেখান থেকে সাধারণ মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে। উত্তর গাজা থেকে পালানো অনেক পরিবারকে শিশুসহ রাস্তায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *