চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক

✍︎ সিলেট প্রতিনিধি ✍︎

রাতের বেলা চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন সিলেটের এক শিক্ষক। তাঁর বন্ধুরাও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন। খবর পেয়ে ওই চায়ের দোকানে গিয়ে শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করেন।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক-সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন সোহান থেকে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করা হয়। তিনি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক।

ইকবাল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

চায়ের দোকানদার ফজলুল হক বলেন, ‘রাতে আমি দোকান গোছাইতেছিলাম। তারা পেপার দেখতেছিল ভেতরে। এ সময় শিক্ষকেরা (শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা) এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা সবাই চলে গেছে। তারপর আমি দোকান লাগিয়ে চলে গেছি।’ তিনি বলেন, ওই পরীক্ষকসহ তাঁর সহপাঠীরা শুক্রবার রাতেও এসেছিলেন দোকানে। তাঁরা নিয়মিত চা পান করতে ও আড্ডা দিতে তাঁর দোকানে আসতেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেন সোহানকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। তবে পুলিশে সোপর্দ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে ইকবালের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল হোসেন সোহান। তখন তাঁর বন্ধু, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আইরিন লিনজাসহ দুজন তাঁর সঙ্গে খাতা কাটছিলেন। এ সময় দোকানে এক বস্তা খাতা ছিল। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা একই দোকানে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাবিপ্রবির প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকানে অভিযান চালান শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। দোকানে বসে বন্ধুদের সাথে নিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় সেখান থেকে এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেন তিনি। পরে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযুক্ত শিক্ষককে জালালাবাদ থানায় নেওয়া হলে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, ‘উনি (ইকবাল হোসেন সোহান) আমাদের পরীক্ষক। পরীক্ষার উত্তরপত্রগুলো বাসায় বসে দেখার কথা ছিল। কিন্তু তিনি পাবলিক প্লেসে বন্ধুদের নিয়ে বসে খাতা দেখছিলেন। খবর পেয়ে আমরা রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করি।’

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।’

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, ‘এ ঘটনায় শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। উত্তরপত্রগুলো বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *