𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে।
এর আগে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জুন থেকে শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। পরে প্রাথমিক সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নতুন করে ২ জুলাই তারিখ ঘোষণা করা হলো।
সভা শেষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু করা হবে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড, অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন,
পাঁচ সপ্তাহের এ পরীক্ষা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে চার সপ্তাহের মধ্যে এ পরীক্ষা শেষ করার প্রস্তুতি ছিল। গত বছর জুনে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সভাসূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য কম সময় পাচ্ছে- এমন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও তাতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। পরীক্ষা পেছানো হলে সম্ভাব্য কী ধরনের সমস্যা তৈরি হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় আলোচনা ও সবার মতামত শোনার পর শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা প্রায় এক মাস পিছিয়ে ২ জুলাই থেকে শুরু করার নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি (রুটিন) তৈরি এবং শিগগির প্রকাশের ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ৭ জুন থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সে অনুযায়ী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ রুটিন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় বোর্ডগুলো। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আপত্তিসহ নানা কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে এ নতুন তারিখ ঘোষণা করা হলো।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকলেও সাধারণ বোর্ডগুলোতে আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হতো।
এসএসসি পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ বাতিল
আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরব বহিষ্কার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ২৯ বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগে অনুচ্ছেদ ২৯ অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ‘নীরব বহিষ্কার’ করা যেত। একই সঙ্গে পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শকের সুস্পষ্ট বিবরণসহ গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা ছিল। এ ক্ষেত্রে উত্তরপত্রের ওএমআর শিটের প্রথম অংশ আলাদা না করার বিষয়টিও উল্লেখ ছিল।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই অনুচ্ছেদটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। ফলে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ থেকে এই বিধান আর কার্যকর থাকবে না।
চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সকল জেলার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
