✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছেন মাত্র ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত ২২ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন পাসের হার।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৮ শতাংশ।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। গতবছর গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এবার ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন এবং পাসের হার ৫৬.৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং পাসের হার ৪৭.৭৫ শতাংশ।
তবে এবার জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ছাত্ররা। মোট জিপিএ-৫ ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী।
চলতি বছর ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১.৮০ শতাংশ। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫.০৬ শতাংশ। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ। যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৪.৯২ শতাংশ। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫২.০৭ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে পাসের হার ৪৪.৮৪ শতাংশ। সিলেট বিভাগে পাসের হার ৫০.৯০ শতাংশ। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৯৮ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ।
এ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯.৪৩ শতাংশ।
এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৫ সালে পাসের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশে।২০০৬ সালে প্রায় ৬৪ শতাংশ, ২০০৮ সালে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ২০১২ সালে ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন।
পরবর্তী বছরগুলোতেও পাসের হার ওঠানামা করেছে।২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে প্রায় ৭২ শতাংশ।
করোনার কারণে ২০২০ সালে সব শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়। ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশে। ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন।
২০২৫ সালে পাসের হার কমে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে দাঁড়ায়। এবার তা আরও কমে হয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
শনিবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
যেভাবে জানা যাবে ফল
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য ওয়েবসাইটের ‘Result’ কর্নারে গিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিয়ে ফলাফল ডাউনলোড করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডের কমন ওয়েবসাইট দুটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফলাফল পাওয়া যাবে।
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। এ জন্য যেকোনো মোবাইল নম্বর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। এসএমএসের ফরম্যাট হলো– HSC লিখে একটি স্পেস, বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, একটি স্পেস, রোল নম্বর, একটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীকে ‘HSC Dha 123456 2026’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। এদিকে, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। এ জন্য যেকোনো মোবাইল নম্বর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। এসএমএসের ফরম্যাট হলো– HSC লিখে একটি স্পেস, বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, একটি স্পেস, রোল নম্বর, একটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীকে ‘HSC Dha 123456 2026’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। এদিকে, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
