✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিষয়টিতে ভারত সরকারের কোনো হাত ছিল না এবং শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য সরকার সমর্থন করে না বলে জানিয়েছে দিল্লি।
শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন।
এর আগে, শেখ হাসিনা ভারতে বসে যাতে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে বা দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে আগেভাগেই দিল্লিকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু তা সত্ত্বেও নয়াদিল্লিতে তিনি সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য দিলে বিষয়টি নিয়ে গভীর দুঃখ ও কড়া প্রতিবাদ জানায় ঢাকা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকীতে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম আঘাত।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার আয়োজন ছিল এবং সেখানে যা বলা হয়েছে, তার দায় ভারত সরকার নেয় না। বিশেষ করে সংবিধানসম্মতভাবে গঠিত বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিষয়ে হসিনার কোনো মন্তব্যকে ভারত সমর্থন করে না।
বাংলাদেশ ছাড়ার পর গত বুধবার নয়াদিল্লি থেকে প্রথম ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন শেখ হাসিনা। ওই সময় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, আগামী ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। এমনকি গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা জীবনের ঝুঁকি নিতেও তিনি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, আমার ভাগ্য যা-ই হোক না কেন, আমি আমার মানুষের কাছে ফিরে যাব। আমার প্রিয় দেশবাসীরা যখন কষ্ট পাচ্ছে, তখন আমি দূরে থাকতে পারি না… আমি ডিসেম্বরেই ফিরে যেতে চাই।
শেখ হাসিনার এই ভার্চুয়াল বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি এবং তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমন একটি দিন, যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন করছে, সে সময় ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করাটা পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার অপরাধের সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের ঘৃণ্য চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও করছে।
