✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ‘ঈদুল আজহা’ আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘ত্যাগের উৎসব’। এই দিনে মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি আদায় করে এবং ঈদের নামাজ আদায় করে।
ঈদের নামাজ ওয়াজিব। সাধারণত খোলা মাঠ বা ঈদগাহে এ নামাজ আদায় করা সুন্নত। প্রয়োজনে মসজিদেও ঈদের নামাজ আদায় করা যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খোলা স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করতেন।
ঈদের নামাজের নিয়ত
বাংলা উচ্চারণ : ‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাইনি সালাতাল ঈদি মা‘আ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবান মুকতাদিয়ান বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজ্জিহান ইলাল কা‘বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।’
অর্থ : আমি অতিরিক্ত ছয় তাকবিরসহ ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করছি।
ঈদের নামাজ আদায়ের নিয়ম
প্রথম রাকাত
• ইমামের সঙ্গে তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত বাঁধতে হবে।
• এরপর ছানা পড়তে হবে।
• তারপর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হবে।
• প্রথম দুই তাকবিরে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।
• তৃতীয় তাকবিরে হাত বেঁধে নিতে হবে।
• এরপর সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পড়া হবে।
• তারপর রুকু ও সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত সম্পন্ন করতে হবে।
দ্বিতীয় রাকাত
• সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পড়বে ইমাম।
• এরপর ইমাম অতিরিক্ত তিন তাকবির দেবেন।
• প্রথম দুই তাকবিরে হাত ছেড়ে দিতে হবে।
• তৃতীয় তাকবিরের পর হাত বেঁধে রুকুতে যেতে হবে।
• এরপর সেজদা, তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ হবে।
ঈদের তাকবির
বাংলা উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
ঈদের নামাজ শেষে ইমাম সাহেব দুটি খুতবা প্রদান করেন। মুসল্লিদের জন্য খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা সুন্নত।
ইসলামী শরিয়তে ঈদের আনন্দ প্রকাশ ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কাজকে আবশ্যিক মনে করে পালন করলে তা বিদআতে পরিণত হতে পারে। তাই সবকিছুই সুন্নত ও শরিয়তের সীমার মধ্যে পালন করা উচিত।
ঈদুল আজহার নামাজ কোরবানির দিনে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের অন্যতম প্রতীক। সঠিক নিয়ম ও শুদ্ধভাবে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আমাদের কোরবানি ও উৎসব সার্থক হয়ে উঠুক।
