এমপি গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করল জামায়াত

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনে দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের নির্বাহী পরিষদের একটি বৈঠক হয়।

সেই বৈঠকে নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। বলা হয়, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জামায়াত আরও জানায়, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে ৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুলের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে থাকা ১৮ বছরের তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন গাজী নজরুল। ওই তরুণী জানান, ১৭ জুন গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। তরুণীর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী একই কথা জানান। 

যদিও বিয়ের কাজী বদরুল আলম মো. বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, ১৭ জুন নয় বিয়ের নিবন্ধন হয়েছে ১৯ জুলাই। এতে বিতর্ক সমালোচনা আরও বাড়ে। যদিও বাংলাদেশের আইনাননুযায়ী বিয়ে আগে করে, পরবর্তীতে তা নিবন্ধনে বাঁধা নেই। তবে ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না করলে দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।  এর মধ্যেই জামায়াত বহিষ্কার করল গাজী নজরুলকে।

তরুণীকে ১৭ জুন বিয়ে করার কথা বললেও, গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি জীবন বৃত্তান্ত পাওয়া গেছে। যাতে চাকরির জন্য জোর সুপারিশ করেন তিনবারের এমপি নিজেই। ২২ জুনের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা লেখা, অবিবাহিত। তার দাবি, জীবন বৃত্তান্তটি বিয়ের আগে তৈরি। তাতে পরে সই করেন তার স্বামী।

কী চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন- এই প্রশ্নে ওই তরুণী গত মঙ্গলবার সমকালকে বলেছিলেন, ছোটখাট বেসরকারি চাকরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় জীবনবৃত্তান্ত দিয়েছেন।

একজন এমপির স্ত্রীর কী ছোটখাট বেসরকারি চাকরির প্রয়োজন রয়েছে কিনা, চাকরি দেওয়ার কথা বলে এমপি তাকে বিয়ে করেছেন কিনা- প্রশ্নে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী বলেছেন, তিনি পরিবারের মতামতে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন।

তবে বুধবার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর গাজী নজরুল এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারেনি সমকাল। দুইজনেরই ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে এবার হত্যাচেষ্টার মামলা

তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদে এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামীর সদ্য বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। আজ বুধবার এই মামলা করেন এমপি গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ওবায়দুর রহমান।

এরই মধ্যে মামলায় একজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার ওই আসামির নাম আমিনুর রহমান। তিনি মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।

এ মামলার আসামিরা হলেন গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) এসআই রাকিবুল হুদা আসামি আমিনুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকায় রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তাঁর বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগনির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তাঁর পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তাঁর ভাগনির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুল ইসলামকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *