𓂃✍︎ জামালপুর প্রতিনিধি 𓂃✍︎
জামালপুরে কারাবন্দি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক জিয়া মারা গেছেন। ৬৭ বছর বয়সি জিয়া অসুস্থ হলেও চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্য হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের দিকপাইত ডি.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি। সভাপতি থাকাকালিন শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মে দুদকের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়ে ছিলো। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে জামালপুর জেলা কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।
জামালপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, পহেলা বৈশাখের দিন কারাগারে উন্নতমানের খাবার দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুদকের মামলায় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি জিয়াউল হক গ্রেফতার হন। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত জিয়াউল হক কারাগারে দুদিন আগে অসুস্থ হলেও ১৪ এপ্রিল দুপুরের পর তাকে ২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা গেছেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন খান জানান, জামালপুর কারাগারে অসুস্থ জিয়েউল হককে রাতে ৯টা ৫মিনিটে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসে। এখন লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে রয়েছে।
জিয়াউল হকের ছেলে জাকিউর রাফিদ নাফি জানান, এখনো তার বাবার লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। লাশ নেওয়ার জন্য তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অবস্থান করছেন।
জামালপুরের জেলা কারাগারের জেলার লিপি রানী সাহা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে জিয়াউলের রক্তচাপ বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রাতে তার মৃত্যু হয়।
