জকসু নির্বাচন: তিন পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি, জিএস, এজিএস প্রার্থীরা পদে জয়লাভ করেছেন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৮ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতিমা কাকলী।

শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। তাদের দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৮৭০।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭০ ভোট। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৩ ভোট। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী থেকে ৩ হাজার ২৬৭ ভোট বেশি পেয়েছেন শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী।

অপরদিকে, এজিএস পদে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের মাসুদ রানা পেয়েছেন ৫ হাজার ১৫ ভোট। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের এজিএস প্রার্থী বিএম আতিকুর তানজিল পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৪৩ ভোট।

ফল ঘোষণার এক পর্যায়ে অডিটোরিয়ামজুড়ে শিক্ষার্থীরা ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘গোলামি না আজাদী, আজাদি আজাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন। একই সঙ্গে শহীদ সাজিদের স্মরণেও স্লোগান শোনা যায়।

এ সময় স্লোগানে নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব এবং নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য শান্তা আক্তার। পুরো মিলনায়তন তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে হাদি হত্যার বিচার দাবি তোলে। স্লোগানের ভিড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় বহুল আকাঙ্ক্ষিত জকসু নির্বাচন। নির্বাচনে জকসু ও হল সংসদে ১৬ হাজার ৪৪৫ জন ভোটারের মধ্যে ৬৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

‎নির্বাচনে মোট ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১৯০ জন। ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র এবং একটি হল সংসদের জন্য আলাদা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়।

একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদেও ভোট হয়েছে। হল সংসদের মোট ভোটার ছিলেন ১২৪২ জন। সেখানে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ৩৪ পদে ১৮৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ২১ পদে ১৫৬ এবং নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছাত্রী হল সংসদের ১৩ পদে ৩৩ প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক তালিকা থেকে ৪২ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৮ এবং হল সংসদের ৪ জন রয়েছেন।

জকসুর কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে ভিপি (সহসভাপতি) পদে ১৩, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ৯ ও এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে ৭ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়।

‎এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র পদে ৪, শিক্ষা ও গবেষণা পদে ৯, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৪, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ৮, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৭, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১০, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ এবং সদস্য পদে ৫৭ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

‎ছাত্রী হলে ১৩ পদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৩, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৩, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ২, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৪, পাঠাগার সম্পাদক পদে ২, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে ৩, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদকে ৪ এবং ৪টি সদস্য পদের বিপরীতে ৮ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *