জাবি প্রক্টরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে কার্যালয়ে তালা

✍︎ জাবি প্রতিনিধি ✍︎

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগত কর্তৃক এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

একই সঙ্গে আগামীকাল রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তারা।

তারা বলছেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে ব্যর্থতা, তথ্য গোপন এবং বারবার আশ্বাস ভঙ্গ করে প্রশাসন চরম ব্যর্থতা ও অসততার পরিচয় দিয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হওয়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ফারজানা তাবাসসুম বলেন, আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অপরাধী গ্রেফতার হননি। উল্টো প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ১৩ মে উপাচার্যের সামনে উত্থাপিত দাবিগুলো তিনি উপস্থিত থেকে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা স্বীকারও করেন। কিন্তু পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল বলেন, প্রক্টর অফিসে এখনও তালা ঝুলছে।

দুপুর ১টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম কার্যালয়ের সামনে এলেও ভেতরে প্রবেশ করেননি। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করবে এবং তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশা করেন।

এর আগে অভিযুক্তকে গ্রেফতারে বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘একজন উপাচার্যের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সত্য প্রকাশ করা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো। কিন্তু আমরা দেখেছি, প্রশাসন বরং নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই ব্যস্ত থেকেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সারা রাতের অবস্থান কর্মসূচিতে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবু তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যান। সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত অবস্থান করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ পাননি; বরং টালবাহানা, দায় এড়ানোর চেষ্টা ও অসংবেদনশীল আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। ভোর পর্যন্ত প্রক্টর আন্দোলনকারীদের সামনে আসেননি। পরে উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হয়ে প্রক্টর আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে আখ্যা দেন। তাঁদের ভাষ্য, এই বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আন্দোলনকে হেয় করার অপচেষ্টা।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *