✍︎ মাগুরা প্রতিনিধি ✍︎
মাগুরায় বাস কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেনকে (৩৮) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালি গ্রামের মো. কুতুবউদ্দিনের ছেলে। তিনি রয়েল এক্সপ্রেস বাসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার ভোর ৫টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি বাস টার্মিনালে আসেন। তাঁদের একজন মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। অন্যজন কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে শাকের হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর দুজনই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
গুলির শব্দে কাউন্টারের ভেতরে লুটিয়ে পড়েন শাকের। প্রথমে উপস্থিত লোকজন তাঁকে স্ট্রোক করেছেন বলে ধারণা করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাইনুল হাসান জানান, প্রথমে স্ট্রোকের সন্দেহ হলেও পরীক্ষা করে শাকের হোসেনের মাথার পেছনে গুলির ক্ষত পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
শাকেরের স্বজন খবির হোসেন বলেছেন, ‘ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাউন্টারে অবস্থানকালে যাত্রীরা বাথরুমে গেলে শাকেরের কাছে দুজন ব্যক্তি আসেন। এরপর একটি শব্দ শোনা যায়। পরে যাত্রীরা তাকে কাউন্টারের টেবিলে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর অন্য কাউন্টারের লোকজন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।’
শাকের হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে তাদের এ দাবির বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহত শাকের হোসেনের বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ১০টি রাজনৈতিক মামলা ছিল বলে জানা গেছে।
মাগুরা সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বললেন, ‘প্রথমে আমরা শাকেরের মৃত্যুর খবর পাই। পরে গোসল করানোর সময় তার মাথার পেছনে গুলির মতো একটি ক্ষত দেখতে পাই। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ। তিনি জানালেন, শাকেরের মাথার পেছনে একটি ছিদ্র পাওয়া গেছে। তবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
