সবশেষ মামলায় সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সবশেষ মামলায় জামিন হওয়ায় তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে দাবি আইনজীবীদের।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। পরে বনানী থানার মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। আজ এই মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে মোট ৭ মামলায় বিভিন্ন সময় জামিন পান বিচারপতি খায়রুল হক।

সবশেষ গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিনের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানায় খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন।

১৬ মে এ মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল।

এই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী–সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হন। শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র‍্যাবসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র–জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন খোয়াইব। তাকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।

গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে একে একে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আওয়ামী বিচারপতি খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *