তেহরানে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরু

✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনির দাফনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। শুক্রবার (০৩ জুলাই) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, খামেনি ও তার সঙ্গীদের মরদেহ শুক্রবার ভোরে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়েছে। সেখানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুই দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রথম বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় পণ্ডিত এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এছাড়া সাবেক নেতাকে সম্মান জানাতে ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিরাও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন।

মেহের নিউজ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ৪০ দিনব্যাপী যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন। তার দাফন প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা ইরানে পৌঁছেছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের পর শুক্রবার থেকে সর্বজনীন শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং নেতার কার্যালয়ের কর্মীদের স্বজনরা তাকে শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছেন। একই সঙ্গে সর্বস্তরের ইরানিদের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরান যখন ইসলাম ও বিপ্লবের একনিষ্ঠ সেবককে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমি জাতি, ধর্ম, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা প্রবণতা নির্বিশেষে সবাইকে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে এবং ইতিহাসে স্মরণীয় সংখ্যায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এটি আমাদের জাতীয় ঐক্য এবং ইসলামের মহৎ আদর্শের প্রতি আনুগত্যের এক স্থায়ী চিত্র তুলে ধরবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ও রোববার এ অনুষ্ঠান চলবে এবং সোমবার তেহরানে একটি বিশাল র‍্যালির আয়োজন করা হবে। এ সময়ে খামেনির মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। এরপর পবিত্র শহর কোমে আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নজফে আরও কিছু কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। সবশেষে ৯ জুলাই মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

বাবার জানাজা, দাফনে অংশ নেবেন না মোজতবা খামেনি

ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহী।

আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে ভারত থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে ইন্ডিয়া টুডেকে সাক্ষাৎকার দেন এলাহী।

বৃহস্পতিবার দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে এলাহী বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ মোজতবার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনার আবহে ইরান যখন সপ্তাহব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন নিরাপত্তাজনিত কারণে মোজতবার বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এলাহী বলেন, গত সপ্তাহে তিনি ইরানে ছিলেন। তখন মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। তারা জানিয়েছেন, মোজতবা প্রকাশ্যে আসতে চান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাঁকে প্রকাশ্যে আসার অনুমতি দিচ্ছে না।

হাকিম এলাহী আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা তাঁর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। আমার মনে হয় এ কারণে তিনি প্রকাশ্যে আসবেন না।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা করলে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে নিহত হন আলী খামেনি। ওই সময় মোজতবাও গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে তিনি অন্তরালে আছেন। তাঁকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর একাধিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। তবে সেগুলো পড়ে শুনিয়েছেন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপকরা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *