✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ চট্টগ্রাম শহরের ডবলমুরিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো. মাসুদুল করিম ওরফে কিলার মাসুদকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে পরিচালিত ওই অভিযানে গ্রেফতার হওয়া মাসুদ ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া মো. মাসুদুল করিম ওরফে কিলার মাসুদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার চর দুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামের মৃত আবদুল হালিম ভূঁইয়ার ছেলে।
বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, ফরিদগঞ্জ থানা ও চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে মো. মাসুদুল করিম ওরফে কিলার মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে ফরিদগঞ্জ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংস্টার পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে মাসুদ পরিচিত ছিলেন। ২০০৪ সালের ২৬ জুন রাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর ক্রসফায়ারে পিচ্চি হান্নান নিহত হওয়ার পর মাসুদ আত্মগোপনে চলে যান।
এর আগে পিচ্চি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাসুদ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
মাসুদ বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং একটি মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। তথ্যপ্রযুক্তি ও পুলিশের নানা কৌশল ব্যবহার করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে ডবলমুরিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক জুমায়েত হোসেন ও মাসুদ আলম স্থানীয় থানা-পুলিশের সহযোগিতায় অংশ নেন।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত ড. শামছুল হক ভূঁইয়ার হাত ধরে মাসুদ ফরিদগঞ্জে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তৎকালীন সময়ে তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ওই সময়ে ফরিদগঞ্জে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্ক হিসেবে পরিচিতি পান মাসুদ। ২০০৪ সালে পিচ্চি হান্নান নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
