কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: ৬ মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎ 

কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পৌঁছায়।

নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।

শনিবার সকালে সাতক্ষীরার এস এম আলীমুজ্জামানের মরদেহ ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়।

এ ছাড়া কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের তিন সদস্য আফসানা শারমিন, শর্ণশিষ দত্ত ও মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার আমিনবাজারের বাবু আহমেদের মরদেহ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে শনিবার বিকেলে দেশে আনা হয়।

কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ সংরক্ষণ, পরিবহন ও দেশে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ তার পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী শুক্রবার রাতে কলকাতায় সৎকার করা হয়েছে।এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন আর্থিকসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

বিজিবি ও বিএসএফের স্থানীয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় শূন্যরেখায় স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়া ও সাভারের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা।

১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।।

সাতক্ষীরায় সাজুর দাফন সম্পন্ন

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কলকাতার হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ আজ শনিবার বাদ আছর জানাজা শেষে তাঁর বাসভবনের সামনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাঁর মরেদহ বাংলাদেশে পৌঁছায়। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে বিজিবি, পুলিশ ও বিএসএফের উপস্থিতিতে নিহতের ভাই মাহামুদুল হাসান দীপু মরদেহ গ্রহণ করেন।

তবে একই হোটেলে নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ গতকাল শুক্রবার রাত ১১টায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার নিমাইতীর্থ মহাশ্মশানে সৎকার করা হয়।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে। নিহত রেবতী একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী।

বরেয়া গ্রামের মাহামুদুল হাসান দীপু জানান, তাঁর সেজ ভাই আলিমুজ্জামান সাজু কোমরের ব্যাথার কারণে আট দিন আগে ভারতে চিকিৎসা নিতে যান। ১৯ আগস্ট রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিএসএফ তাঁর মরদেহ ভোমরা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতিতে তাঁর কাছে হস্তান্তর করে। বেলা ২টার দিকে সাজুর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কয়েক হাজার মানুষ তাঁকে একনজরে দেখার জন্য ভিড় জমায়। বিকেল পাঁচটার দিকে বরেয়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে সাজুর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *