✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাস–মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক হয়েছে। তবে ভাড়া কত বাড়ানো হবে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।
রোববার রাত আটটার দিকে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক শুরু হয়। রাত ১০টার দিকে বৈঠকটি শেষ হয়। এতে বিআরটিএর কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক–শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্য এক টাকা বৃদ্ধি বা কমলে ভাড়া এক পয়সা বাড়ানো বা কমানোর রীতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে এসেছে। এ ক্ষেত্রে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পরিবহনমালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের পর বাস–মিনিবাসের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়নি। এর মধ্যে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে খুচরা যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন ওয়েলের খরচ বেড়েছে। সেটাও আমলে নিতে হবে।
বাসের ভাড়ার সম্ভাব্য হার বিআরটিএ থেকে প্রস্তাব করা হয়। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। এদিকে সড়ক পরিবহনবিষয়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক ঢাকার বাইরে আছেন।
বর্তমানে দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য সরকার নির্ধারিত বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা। এসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে দেয় না। ট্রাক–কাভার্ড ভ্যানসহ মালাবাহী যানেরও ভাড়া সরকার ঠিক করে দেয় না।
বাস ও লঞ্চের ভাড়া বাড়াতে পায়তাঁরা করা হচ্ছে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাস ও লঞ্চের ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগের মধ্যে প্রভাবশালী মালিক সমিতিগুলোর বিরুদ্ধে একচেটিয়াভাবে ভাড়া বাড়ানোর পায়তাঁরার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব ও দর-কষাকষি বাদ দিয়ে ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
মহাসচিব বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহনভাড়া বাড়তে পারে—এটি স্বাভাবিক। তবে মালিক সমিতিগুলো সরকারের কিছু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই ভাড়া নির্ধারণের চেষ্টা করছে, যা ভোক্তা অধিকারপরিপন্থী। জনস্বার্থে ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি কেন গোপনে করা হবে, কেন তা গণমাধ্যম থেকে আড়াল করা হবে—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী ভোগান্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, নির্ধারিত আসনসংখ্যা অনুযায়ী ভাড়ার তালিকা না করে অতিরিক্ত আসনের বাসে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভাড়া নির্ধারণে ব্যয় বিশ্লেষণের উপাদানগুলোও একতরফাভাবে ঠিক করা হয়, যা যাচাইয়ের সুযোগ থাকে না।
এ ছাড়া পুরোনো বাসের অতিরিক্ত মূল্য দেখানো, অস্বাভাবিক খরচ দেখিয়ে ভাড়া বাড়ানো, কর্মীদের বেতন-ভাতা বাস্তবে না দিয়েও কাগজে দেখিয়ে ভাড়া নির্ধারণ, ইনস্যুরেন্স ও অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, দূরপাল্লার বাসে স্বল্প দূরত্বে যাত্রা করলেও পুরো পথের ভাড়া আদায় করা হয়। সিএনজি ও ডিজেলচালিত বাসের ভিন্ন ভাড়া থাকলেও বাস্তবে সমানহারে বেশি নেওয়া হচ্ছে। ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যও চলছে।
একই সঙ্গে দিন-সময়ভেদে ভিন্ন ভাড়া, বৃষ্টি বা বিশেষ দিনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের দাবি, সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে যাত্রী প্রতিনিধিত্ব না থাকায় এসব অনিয়মের প্রতিকার হচ্ছে না।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ায় বাসভাড়া সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা প্রতি কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এর বেশি বাড়ানো হলে তা অযৌক্তিক হবে বলে সতর্ক করে তারা।
সমাধানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংগঠনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
