✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। পাওয়ারগ্রিডের তথ্য বলছে, বিকেলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সন্ধ্যার আগেও ঘাটতি ছিল প্রায় এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট।
পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট। এর এক ঘণ্টা আগে, বিকেল ৪টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল এক হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট।
এর আগে, বিকেল ৩টায় ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট। দিনের শুরুতে ঘাটতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট। দুপুর ১টায় ছিল ৭৮৬ মেগাওয়াট।
গতকাল রাতেও বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল বেশি। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৮৬৩ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯৫৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এর এক ঘণ্টা আগে রাত ১২টায় উৎপাদন ছিল এক হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, এক ঘণ্টার ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৪৯ মেগাওয়াট। দিনের বড় অংশে আদানির সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।
এ ছাড়া আজ পায়রা থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) একজন কর্মকর্তা জানান, শনিবার তাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে এলাকাভেদে দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে।
ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) জানায়, তাদের এলাকায় চাহিদা ছিল প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ডেসকোর আওতাধীন কোনো কোনো এলাকায় কমপক্ষে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ কম থাকায় জাতীয় গ্রিডে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ছুটির দিনেও বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
